ভারতের সৌরভের মতে: “রুশ ভাষা আমার কাছে ভালোবাসার আরেক নাম”

Основное изображение статьи

নিজ দেশে থাকাকালেই এই তরুণের বিদেশি ভাষা শেখার প্রতি আগ্রহ জন্মেছিল। নানা ভাষার মধ্যে রুশ ভাষাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করে। সেই ভালোবাসার টানেই আজ তিনি মস্কোতে বসবাস করছেন ‘উইন্ডো টু রাশিয়া’ পত্রিকার সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করছেন!

রুশ ভাষাই কেন বেছে নিলেন?

সৌরভ তিওয়ারি ভারতের উত্তরাঞ্চলের গোরখপুর শহরের মারওয়ার বিজনেস স্কুল থেকে অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তবে তাঁর স্বপ্ন ছিল ভাষা নিয়ে পড়াশোনা করার। ভাষার প্রতি গভীর অনুরাগই সৌরভকে তাঁর শিক্ষার গতিপথ পরিবর্তন করতে অনুপ্রাণিত করে। সেই আগ্রহ তাঁকে নিয়ে যায় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেখানে তিনি রুশ ভাষার Advanced Level কোর্স সম্পন্ন করেন।

রাশিয়ায় পাড়ি দেওয়ার পেছনের গল্প কি?

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ও ভারতে রাশিয়ার দূতাবাসের উদ্যোগে আয়োজিত নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সৌরভের সক্রিয় অংশগ্রহণ তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সেই অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ‘রসসোত্রুদনিচেস্তভো’ (Rossotrudnichestvo)-এর বৃত্তি লাভ করেন, যা তাঁকে রাশিয়ায় বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ এনে দেয়। এভাবেই তাঁর মস্কো যাত্রা শুরু হয়। পরে তিনি RUDN বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষাতত্ত্বে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

স্নাতকোত্তর অধ্যয়নের সময় সৌরভ RUDN বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। এই সময়ে রুশ ভাষা তাঁর জন্য আন্তর্জাতিক যোগাযোগের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে ওঠে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের সঙ্গে তিনি রুশ ভাষাতেই যোগাযোগ করতেন।

রুশ ভাষা শেখার পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল?

সৌরভ স্বীকার করেন যে রুশ ভাষার ব্যাকরণ, বিশেষ করে বিভক্তির ব্যবহার, তাঁর কাছে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং মনে হয়েছে। তবে সেই চ্যালেঞ্জই তাঁকে এতটাই আকৃষ্ট করেছে যে বর্তমানে RUDN বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর গবেষণার বিষয়ও রুশ ভাষার বিভক্তি ব্যবস্থা।

রুশ ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর ভালোবাসা শুধু পড়াশোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি মূল ভাষায় রুশ সাহিত্য পড়তে পছন্দ করেন এবং সের্গেই ইয়েসেনিনকে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় সাহিত্যিক হিসেবে উল্লেখ করেন। শুধু তাই নয়, সৌরভ নিজেও রুশ ভাষায় কবিতা রচনা করেন। তাঁর প্রিয় রুশ শব্দ ‘ভদখনোভেনিয়ে’— অর্থাৎ ‘প্রেরণা’।

“আমি বরাবরই ভাষা শিখতে আগ্রহী ছিলাম। অনেক ভাষা শেখার চেষ্টা করেছি, কিন্তু রুশ ভাষাই আমাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে। ভাষাটির সুর ও উচ্চারণ আমার কাছে অবিশ্বাস্য রকমের সুন্দর মনে হয়।”

রাশিয়ায় এসে প্রথম অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

সৌরভ তাঁর রাশিয়ায় কাটানো প্রথম দিনগুলোর কথা স্মরণ করে বলেন, “সত্যি বলতে, আমার মনে হচ্ছিল যেন আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি। আমি একটি ছোট শহরের ছেলে। জীবনের সবচেয়ে সাহসী কল্পনাতেও ভাবিনি যে একদিন রাশিয়ার মতো এত সুন্দর একটি দেশে আসার সুযোগ পাব।”

মস্কোতে এসে প্রথমদিকে তিনি যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যে সত্যিই রাশিয়ায় রয়েছেন। নিজের চোখে সেন্ট বাসিলস ক্যাথেড্রাল দেখার পরই তাঁর সেই অবিশ্বাস কাটে। রাশিয়ার রাজধানীতে বসবাস করতে তাঁর খুব ভালো লাগে। তাঁর ভাষায়, “মস্কোর প্রতিটি কোণ যেন একেকটি শিল্পকর্ম—সবকিছু পরিচ্ছন্ন, সুন্দর এবং যত্নে রক্ষিত।” বিশাল এই শহর আজও তাঁকে নতুন নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করে; এখনও তিনি মস্কোর নানা অজানা দিক আবিষ্কার করে চলেছেন।

মস্কোর বাইরেও সৌরভ রাশিয়ার অনেক শহর ঘুরে দেখেছেন। তিনি সেন্ট পিটার্সবার্গ, ইয়ারোস্লাভল, নিজনি নোভগোরদ, তভের, ভ্লাদিমির, সুজদাল, রস্তভ ভেলিকি এবং কালুগা সফর করেছেন। প্রতিটি শহরেই তিনি রাশিয়ার সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতির গভীর ছাপ অনুভব করেছেন।

রাশিয়ার শীতের সঙ্গেও এখন তিনি বেশ মানিয়ে নিয়েছেন। যদিও শুরুতে প্রচণ্ড ঠান্ডা তাঁর জন্য বেশ কঠিন ছিল, তবু সময়ের সঙ্গে তিনি অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। তাঁর মতে, রাশিয়ায় সহজেই উপযুক্ত শীতের পোশাক পাওয়া যায়, যা নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে তাঁকে অনেক সাহায্য করেছে।

লেখক: আলেক্সান্দ্রা গুজেভা

প্রকল্প: উইন্ডো টু রাশিয়া

২৪.০৪.২০২৬
Наверх